সাবেক সংসদ সদস্য
চেয়ারম্যান: ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি
এম. এ. আউয়াল (জন্ম: ১৬ মার্চ, ১৯৬৮) একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক। তিনি বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ২০১৪ সালে লক্ষ্মীপুর-১ আসন (রামগঞ্জ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তিনি ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য ছিলেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
এম. এ. আউয়াল ১৯৮৬ সালে রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৮৮ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে কলা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ঢাকার ২২টি ছাত্র সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা
১৯৯৬ সালে তিনি দরিদ্র মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ‘হ্যাবিটেট কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ১০৭টি এনজিও যুক্ত হয়। তিনি এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য হন এবং পরে সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ক্লাবের চেয়ারম্যান, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক ৩১৫ এ১-এর ডিস্ট্রিক গভর্নর উপদেষ্টা, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ রামগঞ্জ উপজেলা সমিতির চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবন
এম. এ. আউয়াল হ্যাভেলি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সক্রিয়। তিনি ‘একপক্ষ’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং ‘দৈনিক লাখো কণ্ঠ’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর প্রথম সহ-সভাপতি (২০২৪–২০২৬) এবং ২০২৩ সালে গঠিত ‘১৫ দলীয় প্রগতিশীল ইসলামী জোট’-এর চেয়ারম্যান।
সম্মাননা ও পুরস্কার
তিনি বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশ থেকে সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে– ২০১১ সালে ‘এস. এন. বোস অ্যাওয়ার্ড’, ২০২৩ সালে ‘নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, ‘রবীন্দ্র-নজরুল ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-নেপাল কালচারাল ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল গ্রিন্ড অ্যাওয়ার্ড’।
ব্যক্তিগত জীবন
এম. এ. আউয়ালের পিতার নাম মরহুম আলহাজ আব্দুর রশিদ এবং মাতার নাম মরহুমা আলহাজ মনোয়ারা বেগম। তার স্ত্রী শারমিন নাহার একজন গৃহিণী। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরের কাফরুলে বসবাস করেন এবং তার স্থায়ী ঠিকানা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি, ধর্মে মুসলিম এবং রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ।